BJP ছেড়ে তৃণমূলে মুকুল রায় ? দেখুন তিনি কি বললেন

একুশের ফল ঘোষণার পর মুকুল রায়কে (Mukul Roy) ঘিরে জোর জল্পনা। বিধানসভায় প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণের পর চর্চা বাড়িয়েছেন মুকুল। তৃণমূলের সুব্রত বক্সির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে মুকুলের রাজনৈতিক অবস্থান জল্পনা বাড়িয়েছে। এই আবহে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’।

শনিবার টুইটারে মুকুল রায় লিখেছেন, ‘BJP-র সৈনিক হিসেবেই এই রাজ্যে গণতন্ত্রকে পুনর্বহাল করার লড়াই জারি রাখব আমি। সকলের কাছে অনুরোধ, তাঁরা সব সাজানো গল্প ও দল্পনা যেন দূরে সরিয়ে রাখেন। আমি আমার রাজনৈতিক পথে সংকল্পবদ্ধ।’

উল্লেখ্য, বিধানসভায় শপথগ্রহণ করে শুক্রবার জল্পনা বাড়ান মুকুল। সুব্রত বক্সির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে বলে নিজেই দাবি করেন। তারপরই বলেন, ‘ ‘অপেক্ষা করুন, যা বলার পরে বলব!’ এদিকে, শুক্রবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য BJP সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু এই বৈঠকে যোগ দেননি মুকুল রায়। বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, BJP-র অন্দরে ক্রমশই কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন মুকুল রায়। যার ফলে ক্ষোভ শোনা গিয়েছে মুকুল অনুগামীদের কণ্ঠে। এবার মুকুলের নীরবতা একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শপথগ্রহণের পর মুকুলের এ হেন মন্তব্য ও সুব্রত বক্সির সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে নয়া জল্পনার সূত্রপাত ঘটে রাজ্য রাজনীতিতে। তাহলে কি তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল? যদিও সেই জল্পনায় নিজেই এদিন ইতি টেনেছেন BJP নেতা।

প্রসঙ্গত, মুকুল শিবির বনাম দিলীপ শিবিরের দ্বৈরথ কান পাতলেই শোনা যায় BJP-র অন্দরে। যদিও প্রকাশ্যে কখনই কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। বরং, হাসিমুখেই একে অপরের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে নিজের কেন্দ্র কৃষ্ণনগর উত্তর ছাড়া সেভাবে BJP-র প্রচারেও দেখা যায়নি মুকুলকে। এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুকুল রায়েলর প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দুর থেকে মুকুল ভাল বলে মন্তব্য করেন মমতা। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মুকুল রায়ের মন্তব্য জল্পনায় জল হাওয়া জোগায়। যদিও শনিবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে মুকুলের ব্যাখ্যা রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ।