এবার স্বয়ং দিলীপ ঘোষের পরিবার স্বাস্থ সাথীর লাইনে,চাপে বিজেপি

দিন তিনেক আগে বেসরকারি হাসপাতালের কর্তাদের ডেকে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করে দিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নিয়ে কেউ হাসপাতালে গেলে তাঁকে ফেরানো যাবে না। সোমবার আর এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিলেন, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডধারীদের চিকিৎসা না-করলে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে সরকার। যদিও বিজেপি নেতারা বারবার কটাক্ষ করে চলেছেন স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে। তাঁরা বরাবর রাজ্যকে বিঁধে চলেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প বাংলায় চালু না করা নিয়ে। কিন্তু বিজেপি নেতাদের বিড়ম্বনা কার্যত বাড়িয়ে চলেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাই। গত শনিবারই সন্ধ্যায় লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ঝাড়গ্রামের জেলা বিজেপি সভাপতি সুখময় শতপথী। আর এবার কিনা খোদ দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পরিবার!

হ্যাঁ, বাস্তবে তেমনটাই হল ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের কুলিয়ানা গ্রামে। সেখানেই থাকেন দিলীপ ঘোষের সাংসদের মা, ভাই-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। শুধু তাই নয়, দিলীপ ঘোষের ভাই হীরক ঘোষ বিজেপির মণ্ডল সভাপতিও। তিনি নিজেও বারবার সমালোচনা করেছেন রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের। কিন্তু গ্রামের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্যাম্পে দেখা গিয়েছে সেই হীরক ঘোষের স্ত্রী-সহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে। আর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও হীরক ঘোষের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যরা যে ওখানে যাবেন, তা তিনি জানতেন না, কারণ তিনি গ্রামেই ছিলেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি দিলীপ ঘোষের তরফেও। তবে, রাজ্য বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, ‘প্রকল্প তো তৃণমূল নেতাদের নয়। প্রকল্প সবার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা কি তৃণমূল নেতারা নেন না? সরকার মানুষের জন্য প্রকল্প করে, তৃণমূলের জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সমস্ত প্রকল্প মানুষের ভালো করছে, সেটাই আমাদের স্বার্থকতা। আর তৃণমূল সব প্রকল্পেই কাটমানি খায়, সেটা ওদের অভ্যেস।

মাত্র দিন দুই আগে ঝাড়গ্রামেরই বিজেপি জেলা সভাপতি সুখময় শতপথীর পরিবারের সদস্যরাও একই ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বাস্থ্যসাথীর লাইনে। ছবি তুলে, কার্ড নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। যদিও সুখময় বাবুর যুক্তি, ‘সরকারি প্রকল্প বলেই গিয়েছিল আমার পরিবার। আর তো মাত্র চার মাস মেয়াদ আছে রাজ্য সরকারের। এর মধ্যে কী সুবিধা দেয়, দেখা যাক। তাহলেই বোঝা যাবে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। কারণ এরপর তো রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু হয়ে যাবে।’ সেই সুখময় শতপথীর পর এবার স্বয়ং দিলীপ ঘোষ। ফলে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে বিড়ম্বনা ক্রমেই বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করানোর জন্য আগ্রহ এখন তুঙ্গে। কয়েক লাখ মানুষ ইতিমধ্যেই এর সুবিধা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও কয়েক দিন আগে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তুলেছেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী আচরণ করেছে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল। তারা চিকিৎসা না-দিয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দিয়েছে জানতে পারা মাত্র প্রশাসন হস্তক্ষেপ করেছে। গত সপ্তাহেই কলকাতার কর্পোরেট হাসপাতালের কর্তাদের ডেকে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিব। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে সরকার যে ঢিলেমি এবং প্রত্যাখ্যান বরদাস্ত করবে না, নানা ভাবে তা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতাদের পরিবারের মানুষজনদেরও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপর আস্থা রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ।