ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তিতে সায় সুপ্রিম কোর্টের, করোনা আতঙ্কের জের

অসমে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দিদের মিলতে পারে মুক্তি। পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে নোভেল করোনা। দেশের এমন পরিস্থিতিতে অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলছিল শুনানি। সোমবার এর রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে দু’বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা আবাসিকদের ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। এদিকে বিশ্বে করোনার থাবা ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

 

ইতালি, চিনের পাশাপাশি মার্কিন মুলুকেও জনশূন্য করেছে এই মারণ ভাইরাস। ভারতেও জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩৫২ জন। যাদের মধ্যে ৯২৮০ জন ভারতীয় এবং ৭২ জন বিদেশি। এদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ৯০৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। বাড়ছে মৃত্যের সংখ্যা ও। ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩২৪ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৯৭৯ জন এবং ১জন দেশান্তরী হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত মুক্তির একমাত্র উপায় একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা আর নিজেদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। দেশ জুড়ে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের সময়সীমা।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল অবদি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও দিল্লিতে। এছাড়াও স্পর্শকাতর কিছু এলাকা চিন্হিত করে তা সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রসাশন। করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে অসমেও। ইতিমধ্যে অসমে ৩১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ১জন মারা গেছেন। এমন অবস্থায় অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পেগুলির পরিবেশ নিয়ে বহুবার উঠেছে অভিযোগ। অল্প জায়গায় যেমন বসবাস করছে বহু মানুষ। তেমন ঐ সল্প জায়গা ও অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থকর বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেখানে তাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের যথেষ্ট আশঙ্কা আছে বলে মনে করছেন তারা। ফলে এমন পরিস্থিতিতে জেলবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে একাধিক পিটিশন জমা পড়ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শুনানি তে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকার।