আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেস জোটের যৌথ ব্রিগেড, অনীহা প্রবীণদের ব্রিগেডে তবু কানহাইয়াকেই চান নবীনরা

আসন্ন বাম-কংগ্রেস ব্রিগেডের (Left-Congress Brigade) প্রধান মুখ কে? পক্ককেশীদের ভিড় নয়, নবীন প্রজন্ম চাইছে আগুনে ভাষণ। এবার কি তবে ব্রিগেডের মুখ হবেন কানহাইয়া কুমার (Kanhaiya Kumar)। কিন্তু তাঁকে নিয়েই এখন আড়াআড়ি ভাগ হয়েছে CPI শিবির। কিন্তু, কেন?

বছর ছয়েক আগে তাঁকে ঘিরেই জন সমর্থনের দৈন্য দশা কাটার স্বপ্ন দেখেছিল বাম নেতৃত্ব।

CPI-এর অন্দরমহলে নাকি ধুতি আর সাদা চুলের নেতার বদলে কানহাইয়া কুমারের আগুনে ভাষণ শোনার আব্দার জমা পড়েছে।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেস জোটের যৌথ ব্রিগেড।

এদিকে CPI-এর অন্দরমহলে নাকি ধুতি আর সাদা চুলের নেতার বদলে কানহাইয়া কুমারের আগুনে ভাষণ শোনার আব্দার জমা পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, দলের ছাত্র সংগঠনের তরফে কানহাইয়াকে আনার জোরাল দাবি উঠেছে। তবে নিমরাজি পক্ককেশী নেতারা। তাঁদের দাবি, বিহারের নেতা বাংলার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নন।

বেশ কিছুদিন পর আবার তিনি খবরে। JD(U) নেতা তথা বিহারের মন্ত্রী অশোক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন বাম নেতা কানহাইয়া কুমার (Kanhaiya Kumar)। বছর ছয়েক আগে তাঁকে ঘিরেই জন সমর্থনের দৈন্য দশা কাটার স্বপ্ন দেখেছিল বাম নেতৃত্ব। তবে একের পর এক ‘দলবিরোধী’ কাজ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই নেতাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে। এরই মধ্যে তাঁকে ব্রিগেড সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে আড়াআড়ি বিভক্ত CPI-এর বঙ্গ শিবির।

দাবি যাই উঠুক কানহাইয়াকে নিয়ে দলের প্রবীণ নেতৃত্ব সন্তুষ্ট নয়। পড়শি রাজ্য তথা কানহাইয়ার জন্মস্থান বিহারেও দলীয় নেতারা অসন্তুষ্ট। তার উপর সম্প্রতি বিহারের মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক ফায়ারব্র্যান্ড এই প্রাক্তন ছাত্রনেতাকে দলে আরও কোণঠাসা করেছে। CPI-র রাজ্য সম্পাদক শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তা স্পষ্ট। কতকটা যেন তাচ্ছিল্যের সুরেই তিনি বললেন, ‘কানহাইয়া এলে আসবেন…।’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে ব্রিগেডে আসতে পারেননি কানহাইয়া। এই নিয়ে দলের রাজ্য পরিষদে এখনও অসন্তোষ রয়েছে। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে কানহাইয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ১০৭ জন সদস্য। বাকি তিনজন দাবি করেছিলেন কানহাইয়াকে ভর্ৎসনা করে ছেড়ে দেওয়া হোক। ওই চারজনের মধ্যে ছিলেন রাজ্য পরিষদের নেতা প্রবীর দেবও। তাঁর কথায়, ‘কানহাইয়া কুমারের মতো সুবক্তাকে ব্রিগেডে প্রয়োজন রয়েছে। আমরা অবশ্যই ব্রিগেডে তাঁকে চাই। সেই চেষ্টাই থাকবে।’

বিহারে CPI-এর মুখপত্রর দফতরে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দলের নেতা ইন্দু ভূষণকে মারধরের ঘটনাতেও কাঠগড়ায় তিনি। এছাড়া ভাষণে CPI-কে ‘কনফিউশন পার্টি অব ইন্ডিয়া’ বলে কটাক্ষ করায় চটে লাল দলীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে তাঁকে সতর্ক করে সেন্সর করেছে জাতীয় পরিষদ। তরুণ নেতার জবাবও দলের সর্বোচ্চ কমিটিতে গৃহীত হয়নি। দলের নিদানে আপাতত ছ’মাস কার্যত নির্বাসনে কানহাইয়া। দলীয় নজরদারির মধ্য়েই কাজ করতে হবে তাঁকে। জাতীয় পরিষদে পাশ করিয়ে নিতে হবে তাঁর বক্তৃতার বয়ান। যদিও সৈকত গিরির কথায়, ‘কানহাইয়ার বক্তব্য তো কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না। কিন্তু, পার্টি লাইন মেনেই তাঁকে বক্তব্য রাখতে হবে।’