চরম ঔদ্ধত পূর্ণ ভাবে আন্তর্জাতিক আদলতের নির্দেশনা অমান্য করলো মিয়ানমার

চরম ঔদ্ধত পূর্ণ ভাবে আন্তর্জাতিক আদলতের নির্দেশনা অমান্য করলো মিয়ানমার

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গনহত্যা প্রসঙ্গে গাম্বিয়া যে মামলা দায়ের করেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করল মিয়ানমার। মিয়ানমার কতৃপক্ষের দাবি , আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় একপক্ষ বিবেচনা করে দেওয়া হয়েছে। এতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিভ্রান্তিকর দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বৃহষ্পতিবার রায়ে রোহিঙ্গা সুরক্ষা প্রসঙ্গে মিয়ানমারকে চারটি নির্দেশনা দেয় যা মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক। তারা আইসিজের আদেশের বিরুদ্ধে কোনোরকম আপিল করতে পারবে না। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আঙ সান সুচি।

 

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দাবি , দেশটির ইনডিপেনডেন্ট কমিশন অফ এনকোয়ারি ( আইসিওই) রাখাইনে কোনোরকম গনহত্যার প্রমান খুঁজে পায়নি। মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের গঠিত আইসিওই কমিশনটি সরকার পক্ষপাতিত বলে অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় মানবাধিকার সংগঠনের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে , অমূলক অভিযোগ করে দেশটির নিন্দা করছে। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

 

মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা নিধননের হাত থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ জনতা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এখন মিয়ানমার সরকার তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রত্যাখ্যান করছে। মিয়ানমারকে শীর্ষ আদালত যে চার দফা নির্দেশ দিয়েছে সেগুলি হল –

এক. রাখহাইনে যে সাড়ে ছয় লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম ঝুঁকিপূর্নভাবে বসবসাস করছে তাদের সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

দুই. মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে গনহত্যা না চালায় বা কোনোরকম উস্কানীমূলক ঘটনা না ঘটায় তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে ।

তিন. রোহিঙ্গা গনহত্যা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে তার পরিপ্রক্ষিতে সবরকমের তথ্যপ্রমান সংরক্ষন করতে হবে।

চার. রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মিয়ানমার কিধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে তা উল্লেখ করে চারমাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতকে এবং এরপর প্রতি ছয়মাস অন্তর প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং সেগুলি গাম্বিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে।

 

আন্তর্জাতিক আদালতে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিধনের অভিযোগ দায়ের করে। গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য ১০-১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারিখ নির্ধারন করে আদালত। প্রথম পর্যায়ে ১১ ই ডিসেম্বর গাম্বিয়ার বিচারবিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদুর নেতৃত্বে শুনানি করে গাম্বিয়া ও ১১ ই ডিসেম্বর আঙ সান সুচির নেতৃত্বে শুনানি করে মিয়ানমার। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও গনহত্যার নৃশংস দৃশ্য তুলে ধরে আবুবকর তামবাদু বলেন , মিয়ানমার সেনাদের সহিংসতা ও নৃশংসতা বন্ধের প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মামলার শুনানি চলাকালীন সময়গুলোতে রোহিঙ্গা সুরক্ষার জন্য আভ্যন্তরীন নির্দেশনার দাবি করা হয় গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে।

 

অপরদিকে গাম্বিয়ার অভিযোগসমূহ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আঙ সান সুচি বলেন, মিয়ানমারের প্রতি যে গনহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তা অসম্পূর্ন এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, কোনোরকম অপরাধমূলক অনুসন্ধান না করেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এবিষয়ে মিয়ানামারের সেনাবাহিনীকে তদন্ত করতে দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে মামলা খারিজ করার আর্জি জানান তিনি।