কলকাতাও এখন ভুগছে করোনা আতঙ্কে, বন্ধ রাখা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কফি হাউস

করোনা আতঙ্কে আতঙ্কিত বিশ্ববাসী। অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মহামারীর আকারে ছড়াচ্ছে COVID-19। এমনকি কলকাতাতেই ৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে মিলেছে করোনা ভাইরাস। সরকারি তরফ থেকে ইতিমধ্যে জরুরি বিভাগ গুলো ছাড়া বাকি সমস্ত কর্মস্থান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি এবার দোর বন্ধ হল ঐতিহ্যবাহী কফি হাউস। করোনা সতর্কতা হিসাবেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন কফি হাউসের কতৃপক্ষ। কলেজ স্ট্রিটের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কফি হাউস বহু কালের স্মৃতির সাক্ষী। ১৯৪২ সালে অ্যালবার্ট হলে কফি বোর্ড, কফি পানের একটি জায়গা তৈরী করেছিল।

 

সেখানেই পরবর্তীতে গড়ে ওঠে অনেক জ্ঞানী গুনীদের আড্ডাস্থল। পরে ঐ স্থানটিকেই ‘কফি হাউস’ নাম দেওয়া হয়। সত্যজিৎ রায়, অমর্ত্য সেন, ঋত্বিক ঘটক, মান্না দে র মতো বহু স্বনামধন্য ব্যক্তির স্মৃতিধন্য এই স্থান মিশে আছে শহরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং বিশ্বের নানা মানুষের এক মিলনস্থান এটি, যা শিল্প ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উদাহরণ। কফি হাউসের এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আগামী ৩১মার্চ অবদি বন্ধ রাখা হবে কফি হাউস। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ এই সময় কফি হাউসে একসঙ্গে বহু লোকের সমাবেশ হলে ছড়াতে পারে করোনা সংক্রমণ, আক্রান্ত হতে পারেন সেখানকার কর্মচারীও। তাই সবদিক ভেবে এটি বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো বিকল্পই খোলা ছিল না। এমনটাই জানালেন কফি হাউস কতৃপক্ষ।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ, এর আগে কোনোরকম পরিস্থিতিতেই বন্ধ হয়নি কফি হাউস। ১৯৫৮ সালে একবার কতৃপক্ষ কফি হাউস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও ওই বছর তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা মিলিতভাবে ওই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি বাঁচাতে সরকারের কাছে বিশেষ আর্জি জানান। ফলে কোনওভাবেই বন্ধ হয়নি কফি হাউস। এমনকি ১৯৫৮ সালে নকশাল আন্দোলনের সময় ও খোলা ছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাস রুখতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

 

 

 

কফি হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, “৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখছি এটি, পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি”। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কফি হাউস বন্ধ করার কোন নির্দেশ আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি করোনা সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বার বার আবেদন জানাচ্ছেন জনসাধারণের কাছে । সতর্কতা হিসেবে যথাসম্ভব বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা এবং ডক্টররা। তাই সামগ্রিক ভাবে সতর্কতা বজায় রাখতেই কফি হাউস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।