কালবুর্গি-লঙ্কেশের ঘাতকদের অস্ত্র প্রশিক্ষক, বাংলার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী প্রতাপ হাজরা।

কালবুর্গি-লঙ্কেশের ঘাতকদের অস্ত্র প্রশিক্ষক, বাংলার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী প্রতাপ হাজরা।

পুণেতে গিয়ে ধরা পড়ল বাংলার অস্ত্র প্রশিক্ষক প্রতাপ হাজরা। গৌরি লঙ্কেশের হত্যার তদন্তের পর কর্নাটক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল যে চার্জশিট পেশ করেছে তাতে এ রাজ্যের  প্রতাপ হাজরার নাম রয়েছে। প্রতাপ হাজরা দক্ষিণ ২৪পরগনার উস্তির নৈনান হাজরা পাড়ার বাসিন্দা। হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত এই প্রতাপ যে উগ্র হিন্দু জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত তা আন্দাজ করতে পারেনি এলাকার মানুষ। তবে কি চুপিসারেই এসব চালাচ্ছিল প্রতাপ হাজরা?

 

মুক্তমনা কন্নড় লেখক এম এম কালবুর্গি সহ সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশের খুনের পেছনে প্লান থেকে শুরু করে অস্ত্র প্রশিক্ষণ পর্যন্ত দিয়েছে প্রতাপ, এমনই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ্যে আসে সে পুণে পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার হওয়ার পর।

 

এলাকার মানুষের দাবি, ৩৪বছরের এই লোক বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সক্রিয় কর্মী। তবে বিজেপি জেলা নেতা অভিজিৎ দাস তা অস্বীকার করে বলেছেন, কোনও দিনই প্রতাপ তাঁদের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

 

২০জানুয়ারি পুণে পুলিশ উস্তি থেকে, কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এর সাহায্যে গ্রেফতার করে। পুণে পুলিশের অভিযোগ, প্রতাপ হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন এবং ২০১৭ সালে পুণের সানবার্ণ মিউজিক ফেস্টিভ্যালে বোমা এমনকি ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রের নালাসাপোরা অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ও জড়িত।

 

যদিও পুণে পুলিশের একাংশের দাবি, নতুন এক হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন ‘ভবানী সেনার সাথে যুক্ত হয়েছিল প্রতাপ হাজরা।২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ম্যাঙ্গালুরুর মতো ১৮টি অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। যার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ছিলেন বাংলার প্রতাপ। তার সাথে আরও এক বাঙালি থাকার কথা জানা গেলেও, গোয়েন্দারা এখনো অব্দি তার ঠাওর করতে পারেনি।

এ ব্যপারে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বলেন, পুণে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগেও ২০১৫ সালে তাকে গ্রেফতার করা সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর জন্য। এর ও আগে ২০১৩সালে ঐ একই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

 

ডায়মন্ড হারবার আদালতে বিভিন্ন মামলার প্রতাপের আইনজীবী বলেন, “একসময়ে প্রতাপ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন তিনি কি রাজনীতি করতেন সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। ”

এদিকে পুণে পুলিশ সুত্রে খবর, সানবার্ণ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হামলা ও নালাসাপোরা অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি ও সনাতন সমিতি দুটির সাথে যুক্ত ছিল প্রতাপ হাজরা। একইভাবে কালবুর্গির হত্যা ও গৌরী লঙ্কেশ হত্যার পেছনেও ছিল ঐ সনাতন সংস্থা। এই সংস্থার আবার শাখা ও তৈরী করেছিলেন তিনি এ রাজ্যে আর তাঁর সঙ্গী ছিল উপানন্দ ব্রক্ষ্মচারী ও বিকর্ণ নস্কর। তবে প্রশ্ন উঠছে এতো কিছুর পরও রাজ্যের গোয়েন্দারা কেন কিছু আচ করতে পারেনি তা নিয়ে।