৩১ মার্চ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানাচ্ছে সূত্র, দেশে মৃত্যু ৬ আক্রান্ত ৩৪১

পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে ভারতে ৩০০ ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। শেষ খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত দেশে ৩৪১ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। তাই জোরদার করা হল সতর্কতা ব্যবস্থা। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ২২ মার্চ রবিবার কার্ফু জারি রয়েছে সারা দেশে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৪ ঘন্টার জন্য দেশবাসীকে সেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আর্জি মেনেই রবিবার সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঘরবন্দি থাকছে ভারতবাসী। এদিকে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ঘটনায় আশার আলো দেখছে স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতিমধ্যে ৩১৫ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ২২ জন সুস্থ হয়েছেন । শনিবার রাত ১০.১৫ তে এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ঘটেছে ৬ জনের।

যেখানে গোটা পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষের ও বেশি। এবং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩০০০ মানুষ। ভারতে ও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে ৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই কেরল। কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০। দিল্লিতে আক্রান্ত ২৭। উত্তরপ্রদেশে ২৪। তেলেঙ্গানায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১জন। তার মধ্যে ১১জন বিদেশি। এদিকে হরিয়ানাতে ১৭ জন আক্রান্ত, তার মধ্যে ১৪জন বিদেশি। রাজস্থানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭জন, যার মধ্যে ২জন বিদেশি। কর্নাটকে ১৫জন আক্রান্ত। পঞ্জাব ও লাদাখে আক্রান্ত ১৩জন। গুজরাতে ৭জন । জম্মু ও কাশ্মীরে ৪জন। এবং কোলকাতায় ৩জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমীত হয়েছে। একদিনেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৭৯জন। ফলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সকলের কপালে। জেনে নিন সতর্কতা হিসেবে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নতুন করে যাতে করোনা ভাইরাস না ছড়াতে পারে তার জন্য বন্ধ করা হচ্ছে বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সহ জনসমাবেশ ঘটতে পারে এমন সব মন্দির মসজিদ, রেস্তরাঁ। শনিবার রাতেই রাজস্থান ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা করেছে। সমস্ত মল ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবং যানবাহন চলাচল ও বন্ধ করা হয়েছে। রাজস্থানের পাশাপাশি পঞ্জাবেও বন্ধ হয়েছে যানবাহন চলাচল। এই সময় পর্যন্ত দরিদ্র মানুষের মধ্যে গম ও খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করবে সরকার। এছাড়া ও বহু রাজ্যই বাস পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার এক টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমার বহু ভাইবোন শহর ছাড়ছেন, যেখানে তাঁরা রোজগার করেন। তাঁরা গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। ভিড়ের মধ্যে ঘুরে বেড়ালে COVID-19 সংক্রমণ বাড়বে। কোথায় যাচ্ছেন আপনারা? এটা অন্য মানুষের জন্যে ও বিপজ্জনক। এতে তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন।”

সরকার সমস্ত রাজ্যকে জানিয়েছে, সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আর্জি জানানোর জন্য। পাশাপাশি সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিউজিয়াম, জিমনাশিয়াম, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্র, সুইমিং পুল ও থিয়েটার সবই বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বন্ধ রাখা হচ্ছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। তিরুমালা মন্দিরের মতো বিখ্যাত মন্দির, তাজমহলের মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র, সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এক সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান। রেল বাতিল করেছে ৩০০০ ট্রেন। ট্রেনে সংক্রমীত ব্যক্তিদের ওঠার কথা সামনে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ঝাড়খন্ড রেলকে চিঠি লিখে আর্জি জানানো হয়েছে সমস্ত ট্রেন চলাচল আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য। ইতিমধ্যে গোয়ার সমস্ত সীমান্ত প্রদেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো পরিষেবা। প্রসাশন জানিয়েছে, সোমবার ও মেট্রো চলাচল প্রায় বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া সতর্কতা হিসেবে গুজরাতে চারটি শহর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই শহরগুলি হল, আহমেদাবাদ, সুরাত, রাজকোট ও বরোদা। বুধবার পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে বলে জানা গিয়েছে। তবে দৈনন্দিন সামগ্রী, সবজি ও ওষুধের দোকান আপাতত খোলা রাখা হবে।