CAA NRC-র প্রতিবাদের হাতিয়ার পোস্টকার্ড, নস্টালজিয়া ফিরছে যুবসমাজে।

CAA NRC-র প্রতিবাদের হাতিয়ার পোস্টকার্ড, নস্টালজিয়া ফিরছে যুবসমাজে।

 CAA NRC-র প্রতিবাদের দৌলতে পোস্টকার্ড নস্টালজিয়া ফিরছে যুবসমাজে। এক জিপিও কর্মীর বক্তব্য , সকালের দিকে একজনকে তাঁরা পাঁচশো পোস্টকার্ড দিয়েছেন। আবার দুপুর নাগাদ এক যুবক এসে দুহাজার পোস্টকার্ড চাইলে বিরক্ত হয়ে তিনি জানতে চান , এত পোস্টকার্ড কি কাজে লাগছে !? তবে কিছু পরেই তাঁর ব্যাপারটা বোধগম্য হল যে , পোস্টকার্ড নিয়ে আন্দোলন চলছে।

 

কয়েকমাসের মধ্যেই হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির তলে হারিয়ে যাওয়া পোস্টকার্ডের। এককালের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম পোস্টকার্ড এখন CAA NRC-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পোস্টকার্ডে ” NO CAA , NO NRC।” লিখে কখনো পাঠানো হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। কখনো বা যাচ্ছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে। শুধুমাত্র দিল্লী থেকেই প্রায় ২৫ হাজার পোস্টকার্ড লেখা হয়েছে। দিল্লির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী আব্দুল বললেন, ‘‘গত ১০ দিনে দিল্লির শহর এলাকা থেকেই প্রায় ১৫ লক্ষ পোস্টকার্ড লিখে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। আসলে অনেকেই অনলাইন পিটিশন বোঝেন না। তাঁদের কাছে পোস্টকার্ডই বড় হাতিয়ার।’’

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত প্রায় তিন হাজার পোস্টকার্ড দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মহম্মদ রিয়াজ। তিনি বলেন, “প্রথম দিনেই মোমিনপুর, সিআইটি রোড এবং এন্টালি এলাকার ডাকঘরে যাই আমরা। তবে কোনও ডাকঘরই একসঙ্গে চার-পাঁচটার বেশি কার্ড দিতে পারছিল না। শেষে যাওয়া হয় জিপিও-তে। সেখানেও একসঙ্গে দু’হাজার কার্ড পাওয়া যায়নি।’’ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাজিদুর রহমান বলেন  CAA NRC -র বিরুদ্ধে যে ভাবে সারা দেশে গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। তার সাথে সাথে এই শিক্ষিত সমাজকে নিয়ে নতুন ভূমিকায় পোস্টকার্ড এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আমাদের আবেদন থাকলো, যাতে এই নাগরিকত্ব আইনকে প্রত্যাহার করে দেশের সংবিধানকে রক্ষা করে।

 

 

CAA NRC-র প্রতিবাদের হাতিয়ার পোস্টকার্ড, নস্টালজিয়া ফিরছে যুবসমাজে।

জনসাধারনের কাজে যে পোস্টাল ব্যবস্থা এখন চালু আছে তার শুরু হয়েছিল ১৮৩৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তত্ত্বাবধায়। তার আগে পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি বা সৈনদের বিভিন্ন কাজে লাগানো হতো। মূলত ১৮৭৯ সালের জুলাই থেকেই ডাকব্যবস্থা সম্পূর্নরূপে চালু হয়। ব্যাক্তিগত কাজে , কখনো প্রতিবাদে ও সরকারি কাজে পোস্টাকার্ড ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এমন দেশজোড়া গন আন্দোলনের অস্ত্র হিসাবে এর আগে কখনো পোস্টকার্ড ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। সিপিএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর কথায় , ‘‘ষাটের দশকে এক বার ছাত্রেরা প্রচুর পোস্টকার্ড লিখে রাষ্ট্রপতিকে পাঠিয়েছিলেন। তবে সেটা এমন সার্বিক ব্যাপার ছিল না।’’

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সোশ্যাল মিডিয়ার বূহ্য থেকে বেরিয়ে এবার পুরানো এতিহ্যের মাধ্যমে লড়াইয়ে নেমেছে জনতা।