১৪ দিন জেল হেফাজতে অর্ণব গোস্বামী,স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড “অয়েল ডান মুম্বাই পুলিশ”

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীকে জেল হেফাজতে পাঠালেন বিচারক। আলিবাগ জেলা আদালতের বিচারক আগামী ১৪ দিন তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। বুধবার সকালেই মহারাষ্ট্রের আলিবাগ পুলিশের একটি টিম মুম্বইয়ে অর্ণব গোস্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। এর পরেই তাঁকে সোজা আলিবাগে নিয়ে গিয়ে হেফাজতের জন্য লোকাল আদালতে পেশ করা হয়েছিল। অর্ণব গোস্বামী আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে নিগ্রহের অভিযোগ আনলে, বিচারক রিপাবলিক টিভির সম্পাদককে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মেডিক্যাল চেকআপ করানোর নির্দেশ দেন। বিচারকের নির্দেশ মতো অর্ণব গোস্বামী হাসপাতাল থেকে ফিরে এলে, তাঁর হেফাজত নিয়ে শুনানি শুরু নয়। বরিষ্ঠ এই সাংবাদিককে আগামী ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

সূত্রের খবর, অর্ণব গোস্বামী ইতিমধ্যে তাঁর আইনজীবী মারফত্‍‌ জামিনের আর্জি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাঁর জামিন নিয়ে আলিবাগ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৮ সালের একটি মামলায় এদিন রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদককে গ্রেফতার করে মুম্বই পুলিশ। সূত্রের খবর, ৫৩ বছর বয়সি এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগেই অর্ণবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০১৮ সালের মে মাসে ডিজাইনার অন্বয় নাইক ও তাঁর মা কুমুদ নাইককে ঘর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেসময় একটি সুইসাইড নোট পায় পুলিশ। তাতে লেখা ছিল, অর্ণব গোস্বামী, ফিরোজ শেখ ও নীতীশ সারদা তাঁকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়ে বকেয়া ৫.৪০ কোটি টাকা আর দেননি। সেই আর্থিক চাপেই তিনি ও তাঁর মা এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন।

চলতি বছরের মে মাসে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ ঘোষণা করেছিলেন, ডিজাইনারের মেয়ে অদন্যা নাইকের আর্জির প্রেক্ষিতে তিনি নতুন করে এই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সকালে লোয়ার প্যারেলের বাড়িতে হানা দিয়ে অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করেন আলিবাগ পুলিশের একটি টিম। সংবাদমাধ্যমের ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, অর্ণবকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে। অর্ণবের পালটা অভিযোগ, বাড়ির বাইরে বের করে আনার আগে পুলিশই তাঁকে নিগ্রহ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গ্রেফতারির নিন্দা করে বলেন, ”এটি ‘ফ্রি প্রেস’ উপর হামলা। আমরা এর বিরোধিতা করব।

এদিকে, মুম্বই পুলিশের মহিলা অফিসারকে নিগ্রহের অভিযোগে রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে বুধবার সন্ধ্যায় আরও একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদিন অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতারে সাতসকালে তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশের একটি টিম। অভিযোগ, সেসময় ওই টিমের মহিলা অফিসারকে হেনস্থা করেন অর্ণব।

শুধু অর্ণব নন, তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও পুলিশকে তার কর্তব্যে বাধাদানের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এফআইআরে রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৫৩, ৫০৪, ৫০৬ ও ৩৪ ধারা যুক্ত হয়েছে।

এদিন অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতারের পর পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ২০২৮ সালের একটি মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ও ৩৪ ধারায় অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্তার দাবি, অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। এদিন সকালে অর্ণবের বাড়িতে যাওয়া এক পুলিশ অফিসার জানান, অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারির বিষয়ে তাঁর স্ত্রীকে জানানো হলে, উনি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের হাত থেকে গ্রেফতারি সংক্রান্ত কাগজ নিয়ে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে ফেলেন।

এদিন অর্ণবকে গ্রেফতারের পরপরই পুলিশ তাঁকে মুম্বই থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে আলিবাগে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে লোকাল আদালতে পেশ করা হয়। অর্ণবের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, বরিষ্ঠ সাংবাদিককে গ্রেফতারির সময় পুলিশ নিগ্রহ করেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত মেডিক্যাল চেকআপ করানোর নির্দেশ দিলে, রিপাবলিক টিভির প্রধান সম্পাদককে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রিপাবলিকের এডিটর-ইন-চিফের গ্রেফতারি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনীতিও শুরু হয়েছে। সরাসরি অভিযোগ উঠেছে শিবসেনার দিকে। শিবসেনা যদিও অর্ণবের গ্রেফতারিতে রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। যাবতীয় সমালোচনা নস্যাত্‍‌ করে শিবসেনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই গ্রেফতারি নিয়ে শিবসেনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অমূলক।