আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ববাসী, করোনা ভাইরাস কি, উৎপত্তি ও প্রতিকার জেনে নিন বিস্তারিত

আতঙ্কে বিশ্ববাসী, করোনা ভাইরাস কি, উৎপত্তি ও প্রতিকার জেনে নিন বিস্তারিত

সম্প্রতি ‘করোনা’ নামক এক ভাইরাসের সংক্রমনতায় আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ববাসী। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তথ্যানুযায়ী এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে। চিনের উহান শহরের এক সামুদ্রিক মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস বলতে এক গোত্রের অনেকগুলো ভাইরাসকে বোঝায়, যা মূলত প্রানীদের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এর সংক্রমন সাধারনত প্রানী থেকে মানুষদের হয়। করোনা ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। করোনা ভাইরাস এর অনেকগুলি প্রজাতির মধ্যে শুধুমাত্র সাতটি প্রজাতিই মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। সাতটি প্রজাতি হল – করোনা ভাইরাস, আলফা করোনা ভাইরাস (NL63 এবং 229E), বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 ও OC43) এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স। করোনাভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘করোনা’।

 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যে ‘মিউটেট করছে’, অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর পরিণামে দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে।

 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তখনই কোনও কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণ হলো, সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনো ব্যাক্তির সাথে নাক বা মুখ একসঙ্গে স্পর্শ করা। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। বয়স্কদেরএই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, ১) মলিকিউলার টেস্ট – সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে এই টেস্টটি করা হয়।
২) সেরোলজি টেস্ট – এই পরীক্ষাটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।

 

করোনা ভাইরাসের উপশমে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। আপাতত প্রতিকার হিসেবে এ ভাইরাস বহনকারীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলছেন বিজ্ঞানীরা। WHO ভাইরাস প্রতিকারে পরামর্শ দিয়েছে , বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা ও ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।

 

তবে রবিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের রাজভিতি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে, তারা করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। ফ্লু এবং এইচআইভি ভাইরাসের ওষুধের মিশ্রণ করোনা ব্যবহার করে তারা প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত্র হয়েছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রাজভিতি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে রোগী পুরোপুরি আরোগ্য লাভ না করলেও অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে এটা মানসম্পন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি কি না তা নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন